কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে দুর্নীতির তদন্ত রুখে দিয়েছেন বলে উল্লসিত বিতর্কিত সাব -রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন । তার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক পত্রিকা সংবাদ প্রকাশ করলেও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি ।
জানা গেছে ইতিমধ্যে বেপরোয়া দুর্নীতির অভিযোগে সাভারের সাব-রেজিষ্টার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে আইন মন্ত্রণালয় । অথচ একের পর এক দুর্নীতি ও রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টকারী মাইকেল মহিউদ্দিন আছেন বহাল তবিয়তে ।জানা গেছে বহুল আলোচিত সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে আসিফ নজরুলের শতকোটি টাকা দুর্নীতির মূল সহযোগী খিলগাঁও এর সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন । তিনি আওয়ামী লীগ আমলে একচেটিয়া বদলি বাণিজ্য করে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আস্থাভাজন ছিলেন । পরবর্তীতে আসিফ নজরুলের গৃহপালিত ক্যাশিয়ার হিসেবে কয়েকশ কোটি টাকা বাণিজ্য করেছেন ।সে ব্যাপারেও তদন্ত কার্যক্রম থেমে গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে ।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুস লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে ছয়-সাত মাসের মধ্যে তিন-চার বার বদলি করা হয়েছে। আর এইসব অপকর্মের নাটের গুরু মাইকেল মহিউদ্দিন ।
আট মাসে (অক্টোবর-২৪ থেকে এপ্রিল-২৫ পর্যন্ত) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের অফিসে বদলির আদেশ পেয়েছেন তারা। অতীতে কখনো মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির ঘটনা ঘটেনি।
মাইকেল মহিউদ্দিন আসিফ নজরুলের ইশারায় সাব রেজিস্ট্রার বদলির নতুন সিন্ডিকেটের বস বনে গিয়েছিলেন ।
সাব রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ নারী কেলেংকারীতেও চ্যাম্পিয়ন। পকেটে লাখ লাখ টাকা নিয়ে অভিজাত গুলশান বনানীর গোপন আড্ডায় নিয়মিত আড্ডাবাজি করেন। সেখানে উঠতি বয়সী মডেল, নাটক পাড়ার অভিনেত্রী এবং র্যাম্প মডেলদের সাথে রাতভর মদ পান করেন এবং একাধিক নারীর সাথে ফুর্তি করতে দেখা যায় তাকে । তার এই বেপরোয়া জীবন যাপনের কারণে পরিবারেও দেখা দিয়েছে নানা অশান্তি ।তার নিকট ঘনিষ্ঠজনরা বলেছেন আওয়ামী লীগের সময় তিনি যা করতেন এখনো তাই করেন। সাব রেজিষ্টার বদলি থেকে শুরু করে ওপর মহলে খুশী করার জন্য গালা পার্টি, নারী সাপ্লাই থেকে শুরু করে দামি দামি ব্র্যান্ডের মদও সাপ্লাই দেন সাব রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ। সব আমলেই তিনি ভালো আছেন।কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করলেও এখনো তিনি বহাল তবিয়তে। বিদেশেও পাচার করেছেন কয়েকশ কোটি টাকা ।তিনি বলে বেড়ান দুদক ও আইন মন্ত্রণালয় তার চুলও স্পর্শ করতে পারবেন না। কেননা মাইকেল নাকি প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা মাসোহারা দেন তাদের । অথচ বিগত দিনে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে মাইকেল প্রকাশ্যে অপকর্ম করতেন তা সবার জানা।তিনি আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রকাশ্যে অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন ।
বিগত সরকারের সময় লোভনীয় পদায়নে নিয়েছেন মাইকেল, ঢাকার সাভার, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, টঙ্গি, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের সব জায়গায়। আর এখন তিনি আছেন সবচেয়ে লোভনীয় পোস্টিং খিলগাঁও এ ।সাব রেজিস্ট্রারদের ভাষায়, সেই পদায়ন নিতে অন্তত চার পাঁচ কোটি টাকা খরচ করতে হয়, যা অনায়াসেই লুফে নিয়েছেন মাইকেল। এর আগে ঐসব জায়গায় দায়িত্ব পালনের সময় নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে নিয়মিত পত্রিকার শিরোনাম হলেও তাকে নড়াচরা করার সাহস হতো না কারও ।সরকার পতনের পর পর আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে শতকোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করেন আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে। মাইকেলের হাতে সিন্ডিকেটের ক্ষমতা । আগেও যারা পদবঞ্চিত ছিলেন এখনো তারা অসহায় । তাদের কোণঠাসা করে রেখেছেন মাইকেল মহিউদ্দিন ।
বিগত ৪০ বছরেও মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লার মতো এমন দুর্নীতিবাজ সাব -রেজিষ্টার দেখেননি ভুক্তভোগিরা। এখন তিনি বিএনপির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রকাশ্যে তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করছেন ।তিনি যেনো সরকারি কর্মকর্তা নন তিনি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় । তিনি বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একের পর এক গণবিরোধী কর্মকান্ডে যুক্ত হচ্ছেন । তাই অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা ।
মন্তব্য করুন