বিশেষ প্রতিনিধি
হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট সংক্ষেপে এইচবিআরআই । এটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের গবেষণাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান ।বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার । অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের এপ্রিলে তিনি দায়িত্ব পান ।তিনি মূলতঃ ছিলেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর । আওয়ামী সরকারের সময় তিনি আওয়ামী ঘরানার প্রকৌশলী হিসেবে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন এবং দুহাতে অর্থ কামিয়েছেন ।তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে ২০১৮ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান । এরপর লোভনীয় বিভাগ গুলো বেছে বেছে দায়িত্ব নেন ।যেমন স্বাস্থ্য উইং, সংস্হাপন ও সমন্বয় । এরপর তিনি জাইকার অর্থায়নে নগরান্চলের ভবন সুরক্ষা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে টানা তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন আওয়ামী সরকারের পদলেহন করে । এসময় তিনি শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং সেই টাকা তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন বলে জানা গেছে । অত্যন্ত চতুর এবং সুবিধাবাদী মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ২০০৯ সালের শেষদিকে পিএইচডি করতে অস্ট্রেলিয়ায় যান ।সেসময় তিনি পরিবারকেও সঙ্গে নেন । ২০১৪ সালে পিএইচডি সম্পন্ন হলেও তিনি তার পরিবারকে অস্ট্রেলিয়ায় রেখে আসেন । যেহেতু তার পরিবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন সেক্ষেত্রে মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনও দ্বৈত নাগরিক বলে জানা গেছে । তিনি এদেশে অবৈধভাবে যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তার সবটুকুই অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন বলে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে । কেউ যাতে বুঝতে না পারে এজন্য তিনি ৫ আগস্টের পর রাতারাতি জূলাই বিপ্লবের অনুসারী হয়েছেন ।অথচ তার নিকটজনরা জানেন জুলাই আগস্ট বিপ্লব প্রতিহত করার জন্য মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন কোটি কোটি টাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যোগান দিয়েছেন ।
এই সেই মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ।জানা গেছে বর্তমানে তিনি এইচবিআরআইতে ডিজি হিসেবে আছেন । গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন সরকারী আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন প্রতিদিন রাত ১০টা কখনো মধ্য রাত পর্যন্ত নিজ অফিস কামড়ায় বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেন মাস্তি করেন ।।সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন যা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে । অথচ মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন সরকারী নির্দেশনা প্রতিদিন লঙ্ঘন করে চলেছেন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অপচয় করছেন । নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন কখনোই সময় মতো অফিস করেন না । কোন কাজকর্মে তিনি মনোযোগী নন । তিনি এখানে টাইম পাস করেন ।তার কিছু সাঙ্গ পাণ্ডারা নিয়মিত অফিসে এসে আড্ডা দেন ।অভিযোগ আছে এইচবিআরআইতে যারা পরিশ্রমি ও দায়িত্বশীল তাদের তিনি কোণঠাসা করে রেখেছেন । শৃংখলা বলতে কিছু নেই । এছাড়া মন্ত্রণালয়ের দোহাই দিয়ে তিনি ঠিকাদার, সাপ্লায়ার ও দুই বছরের পত্রিকার বিজ্ঞাপন বিল পরিশোধ করছেন না । আজ দেবো কাল দেবো বলে ঘোরাচ্ছেন । তারা আরো জানান মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করার কারণে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় না করে গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে তার নিজ কার্যালয়ে প্রতিদিন আড্ডা দেন ।এবিষয়ে তদন্তসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জের দাবি জানানো হয়েছে ।
তার নারী কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি নিয়ে আগামী কিস্তিতে থাকবে আরো বিস্তারিত ।
মন্তব্য করুন