হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি আর কৃষি ও কৃষকের জীবন বিপন্নকারী বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন এসোসিয়েশনের সভাপতি ও মিমপেক্স এগ্রোকেমিক্যাল এর ব্যবস্হাপনা পরিচালক এম সায়েদুজ্জামান।
বালাইনাশক আমদানি ও বিতরণে প্রতি বছর মোটা অংকের টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেশ ও জনগণের সাথে প্রতারণা করে চলেছেন দেশবিরোধী লুন্ঠনকারী সায়েদুজ্জামান । তার প্রতিষ্ঠান মিমপ্লেক্স এগ্রো কেমিকেল ও তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের বালাইনাশক আমদানি করে কৃষিভিত্তিক দেশীয় শিল্পকে ধ্বংস করে দিয়েছেন এই চক্র । পাশাপাশি কৃষকের কাছ থেকে পাঁচগুণ মূল্য নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রধান চক্র তিনি । জানা গেছে সায়েদুজ্জামান কৃষক ও ভোক্তাদের ঠকিয়ে বালাইনাশক মানিকসহ অন্যান্য পন্য আমদানি খরচ বাদ দিয়ে প্রায় পাঁচগুণ দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । তিনি দীর্ঘ বারো বছর ধরে এসোসিয়েশনকে অবৈধভাবে দখল করে একতরফাভাবে নিম্নমানের পণ্য আমদানি করে এদেশের কৃষকের স্বপ্ন যেমন ভংগ করেছেন তেমনি সরকার প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তথ্যমতে তার এই অপকর্মে যুক্ত ছিলেন বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি পিটাক এর কিছু অসৎ ব্যক্তি। আরো সামিল ছিলেন এনবিআর এর বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ কমিশনার, সদস্য ও কর্মকর্তা ।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সায়েদুজ্জামান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমতো দুর্নীতি করেছেন । তার এই অবৈধ কর্মাকান্ডে সহায়তাকারিরা এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে।
যখন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলের অন্যতম অঙ্গীকার হচ্ছে দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান। আর সেখানে সায়েদুজ্জামান হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেও এখনও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দুদক থেকে শুরু করে তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছেন। জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে সায়েদুজ্জামান মোটা অংকের টাকা খরচ করেছেন বলে জানা গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতার করেছিলো । মোটা অংকের দফারফার বিনিময়ে কৌশলে বেড়িয়ে আসেন তিনি। গত বছর তার বিরুদ্ধে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সোসাইটি। নিম্নমানের বালাইনাশক আমদানি রোধ ও কৃষক পর্যায়ে উচ্চমূল্যে বিক্রির প্রতিবাদে বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন এসোসিয়েশনের সভাপতি এম সায়েদুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। এই মানববন্ধনে পেশাজীবি বুদ্ধিজীবী সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।
সায়েদুজ্জামান বিগত সরকারের সময় কখনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ পরিবারের দোহাই দিয়ে বালাই নাশক কারিগরি ঊপদেষ্টা কমিটির বেশিরভাগ সদস্যকে শতশত কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে অপকর্মে যুক্ত করেছিলেন। । এজন্য পিটাক ও কৃষি অধিদপ্তর তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্হা গ্রহণ করেনি।এমনকি দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংশের জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার সবই করেছেন পিটাকের অসৎ কর্মকর্তাদের দৌলতে। জানা গেছে এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা তৈরির মূল হোতা সায়েদুজ্জামান। দেশীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানদেরকে নানাভাবে হয়রানি করতেও ছাড়েননি এই দুর্নীতিবাজ ও দালাল সায়েদুজ্জামান। সায়েদুজ্জামান বিগত সরকারের সময় ঘোষণা অনুযায়ী পারফেক্ট সোর্স থেকে মানসম্মত বালাই নাশক আমদানি না করে বরং বিভিন্ন অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের বালাই নাশক আমদানি করেছে। বালাই নাশক আইন ২০১৮ অনুযায়ী এসকল বালাই নাশক আমদানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপনকৃত আমদানি নীতিমালা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সেখানে বলা আছে অন্তত ২টি দেশের নুন্যতম ৩টি সোর্স থেকে মূল্য যাচাই বাছাই করে আমদানি করতে হবে। কিন্তু সায়েদুজ্জামান সে তার পদ পদবী ও অবৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করে ৭৭ ও ৮৪ তম পিটাক সভায় সিঙ্গেল সোর্স অনুমোদন করান। আরো জানা যায় যে, ঐ মিটিংএ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান সিঙ্গেল সোর্সের অনিয়ম তুলে ধরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতিমালা অনুসরণ করার প্রস্তাব করলে সায়েদুজ্জামান অবৈধ ক্ষমতাবলে তা নাকচ করার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে এনবিআর সূত্রে জানা যায়, তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিঙ্গেল সোর্স থেকে পণ্য আমদানি করে নি। ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট এনালাইসিস করে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে তিনি শত শত এলসি নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমদানি করে চলেছেন। এদিকে তার আমদানি করা বিভিন্ন এগ্রো কেমিক্যাল নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায় যে, বছরে প্রায় শতকোটি টাকা ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি চিটাগাং পোর্টে অনিয়মের কারণে এগ্রো কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার মালামাল আটকে ছিল। যেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা প্রতি এলসিতে ৪ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছিলো কিন্তু দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট তৈরি করে সায়েদুজ্জামান প্রতি এলসিতে ১ টাকাও জরিমানা দেন নি। ইতোপূর্বে শৈলকূপায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সায়েদুজ্জামানের বিরুদ্ধে পেস্টিসাইড আইনে মামলা করেছেন এবং তাকে বিপুল অর্থ জরিমানা দিতে হয়েছে । সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে উচ্চমূল্যের হ্যামার, মার্সিডিজ, ল্যান্ড ক্রুজার ইত্যাদি নামীদামী গাড়ী অসাধু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ক্রয় করেন। তার প্রতিষ্ঠানের নামে কেনা এই গাড়ীগুলো প্রায় কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের। অথচ এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান একবারও তার টাকার উৎস খুঁজে দেখেন নি।আয়কর নথির সাথে প্রকৃত আয়ের কোন মিল নাই। তা ছাড়া তার একজন ঘনিষ্ঠ এনবিআর কর্মকর্তা আছেন। যার মাধ্যমে অবৈধ কাজ কারবার করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সায়েদুজ্জামানের এইসব ধারাবাহিক অপকর্মের কারণে তার ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জানা গেছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ -২ শাখার স্মারক নং ১২.০০.০০০০.০২৬,৩৯, ০০৫,২২,২৭৪, তারিখ ১৫।১০। ২০২৪ সূত্রে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সাথে কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সায়েদুজ্জামানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মিমপেক্স এগ্রো কেমিক্যাল কোম্পানীর আমদানী রপ্তানী এবং মাঠ পর্যায়ে বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেই তদন্ত কি পর্যায়ে আছে তা জানা যায়নি। এ দিকে এম সায়েদুজ্জামানের আরেক অপকর্মের সংগী মেহেদী হাসান পাঠান। তিনি এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। সায়েদুজ্জামানের নানা অপকর্মে সহযোগিতা করে থাকেন তিনি । ( এ বিষয়ে পরবর্তী পর্বে থাকবে বিস্তারিত ) । যাকে অবৈধভাবে তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বানানো হয়েছে । এই দুই নাটের গুরু কোটি কোটি টাকার কর ফাঁকিসহ অবৈধ উপায়ে পন্য আমদানী করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
জানা গেছে বালাইনাশকের উৎস উন্মুক্তকরণ নিয়ে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি (পিটাক) ও কৃষি মন্ত্রণালয়। চাহিদার প্রেক্ষিতে দেশে বালাইনাশকের চার হাজার কোটির টাকার বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, যার ৮০ ভাগ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের দখলে। আর মাত্র ২০ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে প্রায় ৬০০ এর বেশি আমদানিকারক এবং ২২টি দেশীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠান। উৎপাদকদের অভিযোগ, সরকারের বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির (পিটাক) বৈষম্যমূলক শর্তের কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন তারা।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট এনালাইসিস করে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে শত শত এলসি নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমদানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ খাতের ব্যবসায়ী বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন এসোসিয়েশনের (বিসিপিএ) সভাপতি ও মিমপেক্স এগ্রোকেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সায়েদুজ্জামানের বিরুদ্ধে শত শত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
তাদের প্রোডাক্টগুলো পরীক্ষার পর জানা গেছে এসব বালাইনাশকে যে পরিমাণ কেমিক্যাল থাকার কথা, তার ধারের কাছেও নেই। এমনকি সর্বনিম্ন পর্যায় থেকেও অনেক কম রয়েছে। কোনো কোনো কোম্পানির বালাইনাশকে প্রয়োজনের চেয়ে এক ভাগ থেকে পঞ্চাশ ভাগ পর্যন্ত কম রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা ১৬টি রাসায়নিক সারের নমুনা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা করে উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়। নমুনাগুলো হচ্ছে সিনজেনটা বাংলাদেশের বিংগো (সলুবার বোরন), ফেভারিট এগ্রোর ফেবার জিঙ্ক, ইনতেফা কোম্পানির বোরফা প্লাস, প্রোগ্রেস এগ্রোর বোরো প্লাস, ফেভারিট এগ্রোর আয়াত বোরিক অ্যাসিড, স্কয়ারের জালি মনো, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ইন্ডাস্ট্রিজের বাই বোরন, ইস্পাহানি এগ্রোর মনো জিঙ্ক, ক্রপ কেয়ারের অ্যাকটিভ বোরাক্স, ভেলেন্টেটেকের ভেলেন্ট মনো জিঙ্ক, সাফা এগ্রি কেয়ারের সাবাসি এবং বোরন, গ্রিন বাংলার গ্রিন লিফ, টেনস এগ্রোর টেনস জিঙ্ক এমকোর ইকো জিঙ্ক প্রোগ্রেস এগ্রোর প্রোজিন বোল্ট, মিমপেক্সের মিম জিঙ্ক, যমুনা প্লাস এগ্রা মার্কেটের গ্রোজিঙ্ক+ এবং সিনজেনটার গ্রোজিংন। গবেষণাগারের ফলে ১৬টি নমুনার সবগুলোতেই ভেজাল পাওয়া যায়। এদিকে
বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে কৃষক পর্যায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুযায়ী বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ১ লাখ টন বালাইনাশকের বাজার রয়েছে। যার প্রায় ৯৫ শতাংশ বাজারই আমদানিনির্ভর। আমদানিকারকরা যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার ফিনিশড পণ্য আমদানি করছেন, সিন্ডিকেট চক্র না থাকলে ও অতি মুনাফা বন্ধ হলে প্রকৃতপক্ষে সমপরিমাণ কীটনাশক আমদানি সম্ভব ৭-৮ হাজার কোটি টাকায়। সেই সঙ্গে কাঁচামাল ও সহযোগী পণ্য আমদানিতে বাড়তি শুল্ক তুলে নিয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করলে একই পরিমাণ বালাইনাশক কৃষকের হাতে পৌঁছাতে ব্যয় হবে মাত্র ৩-৪ হাজার কোটি টাকায়।
অভিযোগ আছে, সিন্ডিকেট সব নিয়মনীতিকে ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ বানিয়ে অবৈধ উৎস থেকে কীটনাশক আমদানি করে প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করছে। এতে একদিকে যেমন সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নমানের বালাইনাশক ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।
বর্তমানে দেশে ২২টি দেশীয় কোম্পানি কীটনাশক উৎপাদনে আগ্রহী থাকলেও তারা নিয়মগতভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সাতটি বহুজাতিক কোম্পানি প্রায় ৪০ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশীয় কোম্পানিগুলো সোর্স পরিবর্তনের সুযোগ না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও টিকতে পারছে না। অথচ একই নিয়মে চলতে থাকা বিদেশি কোম্পানিগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে তুলনামূলক কম দামে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১৩৫০টির মতো বেসরকারি পেস্টিসাইড কোম্পানিকে আমদানির জন্য প্রায় ১২ হাজার ব্র্যান্ড অনুমোদন দিয়েছে। বালাইনাশকের বাজার এখন ১৫ হাজার কোটি টাকার, যার প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। বড় এ বালাইনাশক বাজার স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও আমদানিনির্ভরই রয়ে গেছে। অথচ এনবিআর২১১ টি প্রতিষ্ঠানের কথা জানে। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বিশ্বের বহু দেশেই এখন রপ্তানি করছে। পণ্যটি আমদানিনির্ভর হওয়ায় কৃষকদের জিম্মি করার সুযোগও বেশি।
এদিকে দেশীয় কৃষি উপকরণ ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বলেছেন বছরের পর বছর এম সায়েদুজ্জামান কৃষকদের বুকে ছুরি মেরেছেন এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছেন এজন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। বিগত দিনে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন এজন্য সায়েদুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং একই সাথে যেসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওত্তায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
নিম্নমানের পন্য আমদানী করে এই শিল্পকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন এম সায়েদুজ্জামান ও মেহেদী হাসান পাঠান এই দুই প্রতারক চক্র। তাদের গ্রেফতার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
মন্তব্য করুন