কোটি টাকার অত্যাধুনিক মেশিন ব্যবহার না করে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ডায়াগনস্টিক বিভাগে সীমিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের প্রভাবে প্রতিষ্ঠানটির সেবায় নেমে এসেছে অনিয়ম–অব্যবস্থাপনার ছাপ। বিশেষ করে আব্দুল রব আখন্দ নামের একজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন বিভাগের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে আমাদের আজকের প্রতিবেদন।
কার্ডিওলজি চিকিৎসায় দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট। কিন্তু এখানে ডায়াগনস্টিক সেবার অবস্থা সন্তোষজনক নয়—এমন অভিযোগ রোগী থেকে চিকিৎসক—সবার।
থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট, কোয়াগুলেশন প্রোফাইল, প্রোক্যালসিটোনিন, ইউরিন রুটিন, সিরাম আয়রন প্রোফাইলসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এখানে করা সম্ভব হয় না। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।
জন্মগত হার্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি দেড় বছরের এক শিশুকে অপারেশনের আগে করতে হয় ১০ থেকে ১২টি পরীক্ষা। কিন্তু এর বেশিরভাগই করতে হয়েছে বাইরে, যা বাড়িয়েছে ভোগান্তি ও খরচ।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি সংগ্রহের সুপারিশ দেয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে—ট্রান্সফিউশন বিভাগের টেকনোলজিস্ট আব্দুর রব আখন্দ তার ব্যক্তিগত কোম্পানি রজনীগন্ধা ইন্টারন্যাশনাল-এর নিম্নমানের মেশিন সরবরাহের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অন্য কোম্পানিকে সরবরাহে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ আরও—সিন্ডিকেটের কারণে কোটি টাকার মেশিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এমনকি রিএজেন্ট চুরি করে বাইরে বিক্রির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও রয়েছে।
চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টদের অভিযোগ—আব্দুর রব ক্ষমতার দাপটে সহযোগী অধ্যাপকের রুম দখল করে সেখানে এসি, ফ্রিজসহ নানা সুবিধা ব্যবহার করছেন। অফিস চলাকালীন তাকে কম দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর তাকে লোকজনসহ আড্ডা দিতে দেখা যায় বলেও দাবি কর্মচারীদের।
একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—এমন আচরণে তারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন এবং বদলির হুমকি পান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রব আখন্দ বলেন—পরিচালকের অনুমতিতেই তিনি রুম ব্যবহার করছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ইনস্টিটিউটের সেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরে আসবে—এমনটাই আশা করছেন তারা।
ডায়াগনস্টিক সেবায় অব্যবস্থাপনা দূর করে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
মন্তব্য করুন