জমি দখল ,সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ এক ডজন অভিযোগ দুদকে
পর্ব : এক
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান। বর্তমানে তিনি কলম্বিয়ার নাগরিক। আসা-যাওয়ার মধ্যেই তিনি থাকেন। বর্তমানে অবস্থান করছেন গজারিয়া ও শনির আখড়ায়। মূলত তিনি বাংলাদেশে এসেছেন সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে অর্থ যোগান দিতে। ১৫ আগস্ট কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আন্ডারওয়ার্ল্ড নেতাকর্মীদের সঙ্গে। অথচ আশ্চর্যের কথা তার বিরুদ্ধে গজারিয়ায় একটি মামলাও হয়নি বিষয়টি রহস্যজনক। মান্নান সরকার সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছার ক্যাশিয়ার ছিলেন অথচ তার একটি চুলও ছিঁড়তে পারেনি স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কোন নেতাকর্মী। বিষয়টি রহস্য ঘেরা।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঝে মধ্যে বিদেশে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে ।তার অবস্থান কখনো ভারত কখনো ভিয়েতনামে আবার কখনো কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড। ইতিমধ্যে তিনি কলম্বিয়ার নাগরিক হিসেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর তৈরি করেছেন ওখানে। গত সপ্তাহে তিনি দেশে ফিরেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে । দেশে ফিরে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কতিপয় নেতাদের সাথে একাধিকবার গোপন বৈঠক করেছেন ঢাকার খিলগাঁও সহ বিভিন্ন জায়গায়। ইতিমধ্যে ১৫ আগস্ট ও ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপপ্রচার এবং দলকে সংগঠিত করতে কোটি কোটি টাকা অর্থ যোগান দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে দুদকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল হয়েছে। এই অভিযোগ করেছেন গজারিয়ার ছোট রায়পাড়া গ্রামের হুমায়ুন কবির, পিতা ধনু মিয়া। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে হাজিরার নোটিশও দেয়া হয়েছে। দুদক স্মারক নম্বর ০০.০১.৬৭০০.৭০৯.০১.০২১.২৫.১৭১১। অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধান পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মোঃ শরিফুল ইসলাম, উপসহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় নারায়ণগঞ্জকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এনবিআর চেয়ারম্যান ,কমিশনার দুর্নীতি দমন কমিশন, ডিজি ডিজিএফআই, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, মহাপরিচালক র্যাব এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম অফিসে।
অভিযোগে বলা হয় তিনি এক বাই এক গোবিন্দপুর শনির আখড়া ঢাকায় ৩০ কাঠা জমির উপরে ১০ তলা মেঘনা শপিং কমপ্লেক্স নামে একটি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে রোডে বালুয়াকান্দি গজারিয়া মুন্সীগঞ্জে শাহ শের আলী নামে সিএনজি ফিলিং স্টেশন করেছেন এবং সাহ সের আলী নামে একটি রেস্টুরেন্টও করেছেন। অভিযোগ রয়েছে সরকারি কার্যমির উপর এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে রোডে বালুয়াকান্দি গজারিয়ায় ২০ বিঘা জমির উপর গজারিয়া ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স টেকনোলজি কলেজ করেছেন। বড় রায়পাড়া গজেরিয়া মুন্সীগঞ্জে ৫০ বিঘা জমির উপর শাহ সহ শের আলী নামে একটি জাহাজ নির্মাণ ডক ইয়ার্ড ইয়ার্ড করেছেন। ঢাকা বনানীতে বিলাসবহুল একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। রূপপুর সিরাজগঞ্জে ১০০ বিঘা জমির উপর একটি খামারবাড়ি করেছেন। প্রায় ২০টি বালুর জাহাজ ও ১৫ টি ড্রেজার রয়েছে তার। প্রভিটা কোম্পানির সাথে রায়পাড়া গজারিয়ায় ১৫০ বিঘা জমি রয়েছে তার। এছাড়াও রয়েছে নামে বেনামে ভাই বোন স্ত্রী পুত্র ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বহু সম্পত্তি। আরো অভিযোগ রয়েছে আরব রয়েছে ২০১৪ সালে ২৩ মার্চ সাবেক চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন কে নির্মমভাবে খুন করা হয়। এখনের মামলায় ২ নম্বর আসামী মান্নান সরকার। তার বাসার সামনে সে সহ কয়েকজন সন্ত্রাসী নির্মমভাবে খুন করেন শামসুদ্দিন চেয়ারম্যান কে।
ভূমিদস্যুতা ও এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরার ক্যাশিয়ার মান্নান সরকার। ৫ আগস্ট এর পর তিনি বিএনপির কতিপয় নেতাদের ম্যানেজ করে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।তিনি আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় গজারিয়া ও মুন্সীগঞ্জে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরার নাম ভাঙ্গিয়ে জমি দখল ও অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। তিনি আওয়ামী নেতাদের পরামর্শে ঢাকাসহ সারাদেশে অবৈধ কার্যকলাপ , নাশকতা ও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে কোটি কোটি টাকা জোগান দিচ্ছেন বলে কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। আগামী ডিসেম্বরে সারাদেশে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনায় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে গজারিয়াসহ নানা স্থানে দলকে সংগঠিত করার কাজে মান্নান সরকারের নেতৃত্বে কয়েকটি টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মান্নান সরকার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির একজন সদস্য। ২০০৯ সালে গজারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। কিন্তু শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিলেন তার কর্মকাণ্ডের কারণে। ঠিক একইভাবে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কিন্তু সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।
জানা গেছে অবৈধভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জমি দখল, চাঁদাবাজি, হত্যা ,বালুমহলসহ নানা অবৈধ কর্মকান্ডে কম করে হলেও হাজার কোটি টাকার মালিক এই মান্নান সরকার। নিম্নবিত্ত, মান্নান সরকার একসময় চাকরী করেছিলেন ষ্টান্ডার্ট গ্রুপের কেরানি হিসেবে। তবে বিগত আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান । তার ভাগ্যের চাকা বদলে দেবার পেছনে রয়েছেন সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা। তার ছায়াতলে থেকে দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানিয়েছেন। শুধু গজারিয়া নয়, আশপাশের সমস্ত থানা ইউনিয়ন পরিষদসহ জেলা পরিষদের নানা কর্মকান্ডে তার অনুপ্রবেশ ছিল। নদী নালা খাল বিল কোন কিছুই বাদ দেননি তিনি । তার কাজই হচ্ছে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে অন্যের জমি দখল করা। তার ভয়ে এলাকার মানুষ তটস্থ ছিল । এভাবে তিনি কামিয়েছেন হাজার কোটি টাকা। ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করেছেন কয়েকশো কোটি টাকার বিনিময়ে । এলাকার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আওয়ামী লীগের সময় জমি দখল, অন্যায় অবিচার এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরায় অবৈধ অর্থের হেফাজতকারী এবং ক্যাশিয়ার আব্দুল মান্নান এখন প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছেন। মুলত ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পর্যন্ত সাবেক মন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরারর আর্শীবাদেই তিনি হয়েছেন হাজার কোটি টাকার মালিক । এদিকে ৫ আগষ্ট দেশের পট পরিবর্তনের পরেও সাবেক মন্ত্রী এবং মান্নান সরকার দুজনেই আছেন নিরাপদে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা যখন দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তখন এই সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা ঢাকা শহরে আব্দুল মান্নান সরকারের হেফাজতে রয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার শনির আখড়া এলাকায় মান্নান সরকারের বেশ কয়েকটি বাড়িতে রুটিন করে লুকিয়ে থাকছেন। দুই বছর প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা ও মান্নান সরকারের ঢাকার বাসায় অবস্থান করলেও আইন প্রয়োগকারি সংস্থা তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারেনি। বিএনপির বেশকিছু নেতা ও স্থানীয় নেতারা ইন্দিরা কোথায় আছেন তা জানেন। আওয়ামী লীগ শাসনকালে গজারিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার এবং সাধারণ মানুষকে নাজেহাল করা সত্ত্বেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাঝে কোটি কোটি টাকার বিনিময় মামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ বলাবলি করছেন মান্নান সরকার আওয়ামী লীগ আমলের চেয়েও এ আমলে বেশি প্রভাব বিস্তার করছেন এবং নিজেকে বিএনপি হিসেবে জাহির করছেন। আওয়ামিলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শতশত মামলা হলেও আব্দুল মান্নান এর বিরুদ্ধে একটি মামলাও গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকায় হয়নি।
মন্তব্য করুন