goyenda admin
২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কাছের মানুষের হাতে ‘প্রতিদিন গড়ে ১৩৭ নারী খুন’

গত বছর বিশ্বজুড়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের হাতে ৫০ হাজারের বেশি নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কাতারভিত্তিক আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
বোলসোনারোর সোয়া ২৭ বছরের কারাদণ্ড
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) তাদের দেওয়া এ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কেবল ঘনিষ্ঠজনদের হাতেই প্রতিদিন গড়ে ১৩৭ নারী খুন হয়েছেন, অর্থ্যাৎ প্রতি ১০ মিনিটে একজন।

২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন নির্মূল দিবসের প্রেক্ষিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং ইউএন উইমেন সতর্ক করে জানিয়েছে, ফেমিসাইড বা নারী হত্যার ঘটনা প্রতি বছর লাখ লাখ নারীর প্রাণহানির কারণ হচ্ছে, কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো বাস্তব অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সবমিলিয়ে ৮৩ হাজার নারী ও মেয়ে ‘ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের’ শিকার হয়েছে। যার ৬০ শতাংশই হয়েছে সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের হাতে, জাতিসংঘের বার্ষিক ‘লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ১৬ দিনের ক্যাম্পেইন’ শুরুর দিনে প্রকাশিত
নারীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটা করুণ হলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে মাত্র ১১ শতাংশকে সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যরা খুন করেছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হত্যার অনেকগুলোই প্রতিরোধযোগ্য ছিল। কিন্তু সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি, পুলিশি প্রতিক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক সহায়তার অভাবে নারীদের ঝুঁকি প্রতিনিয়তই বাড়ছে।
নিহতের এই সংখ্যাও প্রকৃত নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক দেশ থেকে ঠিকমতো তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি, অনেকে খুনের খবর পুলিশকে জানাতে ভয় পান, আবার অনেক দেশে আইনি সংজ্ঞাজনিত নানান জটিলতাও অনেক খুনকে আড়াল করে দেয়, বলছে ইউএন উইমেন।
আর্থিক অস্থিতিশীলতা, সংঘাত, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপদ আবাসের অভাব নিপীড়নমূলক পরিস্থিতিতে আটকা নারীদের ঝুঁকি আরও তীব্র করছে, বলছেন গবেষকরা।
ইউএনওডিসির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক জন ব্রান্ডোলিনো বলেছেন, বিশ্বজুড়ে বহু নারী ও মেয়ের জন্য নিজের বাড়িই সবচেয়ে অনিরাপদ, কখনও কখনও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
ইউএন উইমেনের কর্মকর্তা সারা হেনড্রিকস বলেছেন, নারী হত্যা (ফেমিসাইড) প্রায়শই এমন এক ‘ধারাবাহিক সহিংসতার’ এমন এক সহিংসতার পথের শেষ ধাপ, যা শুরু হতে পারে নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, হয়রানি এবং অনলাইন নির্যাতন থেকে। জিটাল সহিংসতা কেবল অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি বাস্তবজীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে এবং সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।
তাদের প্রতিবেদন বলছে, ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা পরিবারের হাতে নারী খুনের হার সবচেয়ে বেশি আফ্রিকায়; এরপরের স্থানগুলোতে আছে আমেরিকা, ওশেনিয়া, এশিয়া ও ইউরোপ।
সহিংসতার প্রাথমিক সঙ্কেত শনাক্তে স্কুল, কর্মক্ষেত্র, স্থানীয় কমিউনিটি এবং সরকারি সেবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করে ইউএন উইমেন।
বিভিন্ন দেশের সরকারকে আশ্রয়কেন্দ্র, আইনগত সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা সেবায় তহবিল বৃদ্ধি করতেও আহ্বান জানিয়েছে তারা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দুই আমলেই ঘুষের সম্রাট  সাব রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফাঁসি চাওয়া সেই এয়াকুবের নিয়ন্ত্রণে এখন যমুনা অয়েল কোম্পানি

অরক্ষিত শাজাহানপুর উত্তরা ব্যাংক গলি

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আত্মীয় পরিচয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সাবেক এনবিআর কমিশনার নুরুজ্জামান

সরকারী আদেশ না মেনে মধ্য রাত পর্যন্ত অফিস কক্ষে মাস্তি করেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর এইচবিআরআই ডিজি গিয়াসউদ্দিন

সেই বিতর্কিত সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন প্রত্যাহার, বিভাগীয় মামলা

এখনো বহাল তবিয়তে বিতর্কিত সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ

বিএনপির সাইনবোর্ডে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স দখলে নিয়েছে খিলগাঁও সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন

আওয়ামী ফ‍্যাসিষ্ট সাব- রেজিষ্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন এখন তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন ভবনের বিএনপিপন্হী চান্দাবাজ গডফাদার

হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি, নিম্নমানের কীটনাশকে পরিবেশ ও জীবন বিপন্নকারী কে এই সায়েদুজ্জামান

১০

কারাগারে দুই খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য মিলল জামিন

১১

প্রতিদিন ১২০০ জনকে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি

১২

সুন্দরবনে অস্ত্রের মুখে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা

১৩

পুলিশ কর্মকর্তাদের সদর দপ্তরের কড়া নির্দেশনা

১৪

মাদারীপুরে শাশুড়ীকে নিয়ে পালালেন জামাই

১৫

ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

১৬

লক্ষ্মীপুর কারাগারে ডাকাতি মামলার আসামির মৃত্যু

১৭

মাদক পাচার রোধে সীমান্তের ৩২ জেলায় রেড অ্যালার্ট

১৮

রাজধানীতে ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১৯

১৯

টঙ্গীবাড়ীতে গভীর রাতে বসতঘরে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা: অল্পের জন্য রক্ষা পেল ৭ বসতঘর

২০