শেষ পর্যন্ত লটারির নামে একজন আওয়ামী নেতার পুত্রকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সহ ১২টি স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হলো। জানা গেছে সম্প্রতি লটারির মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির প্রক্রিয়া চালু করেন গণপূর্ত অধিদপ্তর। আর এই লটারির মাধ্যমেই নির্বাচন করা হয় গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের প্রকৌশলী হিসেবে রেজা তৈমুর মালিককে ।
এই পদায়নকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করার একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র। তারই আলোকে আওয়ামী প্রকৌশলীদের ষড়যন্ত্রের ফসল এই পদায়ন। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টা সর্বমহলে আলোচিত।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল হক মালিক স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের পরিচিত নেতা ছিলেন। তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের।প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিকের পারিবারিক পটভূমি চুয়াডাঙ্গার আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম মো. রেজাউল হক মালিকের (মুকুল) সন্তান। ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি রেজাউল হক মালিক মারা যান।অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (SDE) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে রেজা তৈমূর মালিক নিজস্ব প্রভাব ও দলীয় সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঢাকার সেরা ও লাভজনক উপ-বিভাগগুলোর দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছিলেন। সেই সময়ে পদপ্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন লটারির অজুহাতে এমন স্পর্শকাতর স্থানে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সন্তানকে বসানো কোনো সাধারণ ঘটনা হতে পারে না। বিগত সরকারের সময়েও তিনি সব ভালো পদ নিজের দখলে রেখেছিলেন।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদায়ন অবিলম্বে পুনঃনিরীক্ষা করার দাবি উঠেছে। নিরপেক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদেরই যেন রাষ্ট্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর দায়িত্বে রাখা হয়, সে বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
অনেকেই মনে করছেন এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে আওয়ামী নেতার পুত্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব দেয়া।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তর এখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী মুক্ত হতে পারেনি। একের পর এক ষড়যন্ত্র চলছে। আর সেখানে লটারির মাধ্যমে এ ধরনের কেপিয়াই ভুক্ত স্পর্শকাতর স্থানের দেখভাল করার দায়িত্ব কি করে আওয়ামী নেতার পুত্র পান। বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই স্থাপনাসমুহ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, এন এস আই হেডকোয়ার্টার, দুর্নীতি দমন কমিশন হেড কোয়ার্টার, ডিএমপি,তথ্য ভবন,সিটিএসবি অফিস, বিচারপতি, সচিব, একাধিক মন্ত্রীসহ ১২জন ভিভিআইপির বাসভবন রক্ষনাবেক্ষন বিভাগের জুরি ডিকশনের অন্তর্ভুক্ত।
মন্তব্য করুন